ওয়ার্ডপ্রেস কনফিগারেশন ফাইলের দশটি টিপস এবং ট্রিকস

ওয়ার্ডপ্রেসের কনফিগারেশন ফাইলে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে যে কত কিছু করা যায়, অনেকেই সেটা জানেন না। আজকের আর্টিকেলে আমি সেইসব টি্রকস নিয়ে আলোচনা করব। এই আর্টিকেলটি মূলত ইন্টারমিডিয়েট থেকে অ্যাডভান্সড ইউজার দের জন্য – তবে কিছু কিছু সেটিংস যারা নতুন ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট শুরু করেছেন তাদেরকেও সাহায্য করবে।

টিপ ১: সহজে ওয়ার্ডপ্রেসের রিপোজিটরী থেকে প্লাগইন এবং থিম ইনস্টল করা: নিজের মেশিন সেটা লোকালহোস্ট বা ডেডিকেটেড অথবা ভিপিএস সার্ভার হোক, ওয়ার্ডপ্রেসের অ্যাডমিন প্যানেল থেকে প্লাগইন বা থিম সার্চ করে ইনস্টল করতে গেলেই ওয়ার্ডপ্রেস সার্ভারের এফটিপি ডিটেইলস জানতে চেয়ে একটা স্ক্রিন শো করে। সেখানে এফটিপি ডিটেইলস না দেয়া পর্যন্ত আপনি ইনস্টল করতে পারবেন না। এই বিরক্তিকর স্টেপটি বন্ধ করার জন্য কনফিগারেশন ফাইলে নিচের মত করে একটি ইনস্ট্রাকশন লিখুন

টিপ ২: ডেভেলপমেন্টের সময়ে ভুল হলে বা আমাদের কোড ঠিকমত কাজ না করলে অনেকসময়েই আমাদের জানার দরকার পড়ে সমস্যা টা কি। ওয়ার্ডপ্রেসের নিজস্ব একটি ডিবাগ সিস্টেম রয়েছে যার সাহায্যে আপনি যাবতীয় এরর বা ইনফর্মেশন সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে পারবেন। এটা অন করার জন্য কনফিগারেশ ফাইলে নিচের ইনস্ট্রাকশন দিন। তবে অনুগ্রহ করে প্রোডাকশন সার্ভারে ডিবাগ অফ করে রাখবেন 

টিপ ৩: ওয়ার্প্রেসে পোস্ট বা পেজ সম্পাদনা করার সময় ওয়ার্ডপ্রেস নিজে থেকে কিছুক্ষন পর পর সেই পোস্টের একটি রিভিশন সেভ করে রাখে। সাময়িক ভাবে উপকারী মনে হলেও ডেটাবেজে এই রিভিশনগুলো অনেক জায়গা নেয় এবং ওয়ার্ডপ্রেসের কোয়েরী চলার সময়েও সামগ্রিক স্পিডের উপর কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখে। তাই ওয়ার্ডপ্রেসের পোস্ট রিভিশন ফিচার বন্ধ করতে হলে নিচের লাইনটি যোগ করে দিন

এছাড়াও ওয়ার্ডপ্রেসে অটোমেটিক পোস্ট সেভ করার ফিচার বন্ধ করতে চাইলে নিচের লাইনটি যোগ করা দরকার। এটি আসলে সত্যিকার অর্থে অটোসেভ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় না বরং ডিলে করিয়ে দেয়। কোন হুক দিয়ে অটোসেভ ফিচার বন্ধ করে দিলে ওয়ার্ডপ্রেসের পোস্ট লেখার সময় আর্টিকেলের প্রিভিউ দেখতে অসুবিধা হয়, তাই এভাবে ডিলে করিয়ে দেয়াই বাঞ্ছনীয়

টিপ ৪: ওয়ার্ডপ্রেসের অ্যাডমিন প্যানেলর মাঝে তাড়াতাড়ি কোন থিম বা প্লাগইনের সোর্সকোড দেখা বা এডিট করা যায়। এর জন্য ” অ্যাপিয়ারেন্স ” মেনু থেকে এডিটর সিলেক্ট করতে হবে। কিন্তু আমরা অনেকেই চাইনা যে অ্যাডমিন প্যানেল থেকে থিম বা প্লাগইনের কোড দেখা বা এডিট করা যাক। এই ফিচারটি বন্ধ করতে হলে নিচের লাইন টি যোগ করুন wp-config.php ফাইলে। তাহলে অ্যাপিয়ারেন্সের ভিতরে এডিটর মেনুটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে

ঠিক একই ভাবে ওয়ার্ডপ্রেসে অ্যাডমিন প্যানেলের ভিতর থেকে কোন থিম বা প্লাগইন আপডেট করার ফিচার ডিজ্যাবল করতে চাইলে লিখুন

টিপ ৫: ওয়ার্ডপ্রেসে যখন কোন ছবি আপলোড করা হয়, তখন তা বাই ডিফল্ট হিসেবে wp-content/uploads এই ডিরেক্টরীতে সেভ হয়। কিন্তু আপনি চাইলে আপনার সুবিধামত যেখানে ইচ্ছা সেখানে এই আপলোড ডিরেক্টরী সরিয়ে দিতে পারেন, এজন্য নিচের মত করে একটি ইনস্ট্রাকশন যোগ করা লাগবে কনফিগারেশন ফাইলে

টিপ ৬: ওয়ার্ডপ্রেস খুব বেশী মেমোরী নেয় না, কিন্তু আপনার সেটআপ এবং প্লাগইন গুলোর ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে মাঝে মাঝে বেশী মেমোরীর প্রয়োজন পড়ে। আপনি কনফিগারেশন ফাইল থেকে সহজেই পিএইচপি মেমোরী লিমিট বাড়িয়ে দিতে পারেন ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য এবং অ্যাডমিন প্যানেলে কাজ করার সময় ম্যাক্সিমাম কত পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবে তাও বলে দিতে পারেন। উল্লেখ্য যে শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে এটা কাজ নাও করতে পারে

এবং

টিপ ৭: ওয়ার্ডপ্রেসে কাজ করার সময় সে নিজেই ডেটাবেজ অপটিমাইজ এবং রিপেয়ার করে নিতে পারে প্রয়োজন পড়লে। ওয়ার্ডপ্রেসের ২.৯ ভার্সন থেকে এই সুবিধা রয়েছে। কিন্তু এর সুযোগ নিতে হলে অবশ্যই কনফিগারেশন ফাইলে নিচের মত করে বলে দেয়া লাগবে

টিপ ৮: ওয়ার্ডপ্রেস চলার সময় তার কোডের অভ্যন্তরে চেক করে যে সে কোন সাইটে চলছে। এই ইনফরমেশনটি ওয়ার্ডপ্রেস ডেটাবেজে অপশনস টেবিলে সেভ করা থাকে।  কিন্তু আপনি চাইলে নিচের লাইন দুটির মাধ্যমে ওয়ার্ডপ্রেসকে আগে থেকেই বলে দিতে পারেন এই ভ্যালু গুলো, তাতে বারবার ডেটাবেজে চেক করা থেকে কিছু সময় বাঁচে এবং ওয়ার্ডপ্রেসের পারফরম্যান্স ইম্প্রুভ করে

টিপ ৯: ওয়ার্ডপ্রেস চলার সময়, বিশেষ করে ডেভেলপারদের অনেক সময় জানা প্রয়োজন হয় যে ওয়ার্ডপ্রেস ভিতরে ভিতরে কি এসকিউয়েল/সিকুয়েল কোয়েরী চালাচ্ছে। এটা দেখার জন্য দুই ধাপে কাজ করতে হবে। প্রথমে কনফিগারেশন ফাইলে নিচের মত করে ইনস্ট্রাকশন দিন

এরপর আপনার থিমের ফুটার ফাইলে (বা যেখানে ইচ্ছা) নিচের পিএইচপি কোড লিখুন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে শুধুমাত্র অ্যাডমিন ই কোয়েরী দেখতে পাবেন

”;
}
?>

টিপ ১০: ওয়ার্ডপ্রেসের চলার সময়ে নিজস্ব এরর লগের বাইরে পিএইচপি এরর লগ দেখতে চাইলে নিচের মত করে কনফিগারেশন ফাইলে এরর লগিং অন করে দেয়া লাগবে, এবং লগ ফাইলের লোকেশন বলে দেয়া লাগবে। এখানে উল্লেখ্য যে লগ ফাইলে অবশ্যই রাইট পার্মিশন থাকা লাগবে

9 thoughts on “ওয়ার্ডপ্রেস কনফিগারেশন ফাইলের দশটি টিপস এবং ট্রিকস”

  1. চমৎকার কিছু টিপস, চালিয়ে যান হাসিন ভাই!

  2. অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি আর্টিকেল এবং বাংলায় সহজ বোধ্য একটি টিওটরিয়েল সাইট উপহার দেয়ার জন্য। অনেক বিষয়ই শেখা হল যা আগে জানতাম না।

    আবারও ধন্যবাদ হাসিন ভাই। 😀

  3. জাস্ট অসাধারণ 😀 অনেক কিছু জানলাম। হাসিন ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ সেই সাথে অনুরোধ করবো ব্লগে আবার নতুন করে লেখালেখি শুরু করার জন্য। আমাদের মত আলসে মানুষদের জন্য 🙁

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *