ওয়ার্ডপ্রেস টার্মিনোলজি

ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে ডেভেলপমেন্ট শুরু করার আগে ওয়ার্ডপ্রেসের বেসিক এলিমেন্ট গুলোর সাথে একটু পরিচিত হওয়া দরকার। কারন প্রাত্যহিক ব্যবহার বা পড়াশোনার সময় আপনি বারংবার এই টেকনিক্যাল টার্মস গুলোর সম্মূখীন হবেন। তাখন যাতে বুঝতে অসুবিধা না হয়, তাই প্রথমেই একটু পরিচিতি পরবর্তিতে আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে।

থিম: থিম বলতে মূলত একটি পুরো প্যাকেজকে বোঝানো হয় যার সাহায্যে ব্যবহারকারীর চাহিদা মত ওয়ার্ডপ্রেস কে কাস্টোমাইজ করে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। একটি থিম ওয়ার্ডপ্রেসের যাবতীয় উপাদান গুলোর মাঝে একটা সমন্বয় সাধন করে, তাদেরকে সফল ভাবে ব্যবহার করে। থিমে সিএসএস বা স্টাইলশিট ফাইল থাকে লুক-অ্যান্ড-ফিলের জন্য, জাভাস্ক্রিপ্ট ফাইল থাকে ক্লায়েন্ট সাইডে কাজ করার করার জন্য, শর্টকোড এবং প্লাগইন থাকে ওয়ার্ডপ্রেসের কিছু কিছু কাজ সহজ করার জন্য অথবা এক্সটেন্ড করার জন্য, এছাড়া বেসিক টেমপ্লেট ফাইল থাকে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট, পেজ, আর্কাইভ ইত্যাদি দেখানোর জন্য। এগুলো সবগুলো মিলেই একটা থিম তৈরী করে

টেমপ্লেট ট্যাগ: ওয়ার্ডপ্রেসের একটি পোস্টের মাঝে অনেকধরনের এলিমেন্ট থাকে। সেগুলো সঠিকভাবে দেখানোর জন্য ওয়ার্ডপ্রেসে বিল্টইন কিছু ফাংশন রয়েছে যেগুলোকে বলে টেমপ্লেট ট্যাগ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আপনি দেখবেন যে আপনাকে আলাদা ভাবে তেমন কিছুই করা লাগছে না, প্রায় সব কিছুই করে দেয়া আছে।

শর্টকোড: শর্টকোড ওয়ার্ডপ্রেসের বহুল ব্যবহৃত একটি প্লাগইন সিস্টেম। সহজে কোন পোস্টের কন্টেন্ট পরিবর্তন থেকে শুরু করে এক্সটার্নাল কন্টেন্ট ডিসপ্লে করার জন্য কনটেন্ট রাইটার দের এই শর্টকোড সুবিধা দেয়া হয়। শর্টকোড আর্টিকেল লেখার এবং ফরম্যাট করার কষ্ট অনেকাংশেই কমিয়ে আনে। যেমন ধরুন আপনার পোস্টে একটি ইউটিউব ভিডিও যোগ করার জন্য আপনি আর্টিকেলে লিখতে পারেন যা পরবর্তীতে একটি ভিডিও প্লেয়ার হিসেবে দেখাবে। শর্টকোড মূলত একধরনের প্লাগইন 🙂

ফিল্টার হুক: ফিল্টার হুক সাধারনত কাজ করে ওয়ার্ডপ্রেসের কোন টেমপ্লেট ট্যাগের আউটপুট পরিবর্তন করার জন্য। যেমন ধরুন আমরা পোস্টের টাইটেল ক্যাপিটাল লেটার করতে চাই, কিংবা ডেটগুলো দেখাতে চাই বাংলায়। তখন আমরা টাইটেলে অথবা ডেটে একটা হুক বসাবো। প্রতিটা হুক আপনার আগে থেকে লিখে রাখা কোন একটা ফাংশনকে কল করবে যাকে বলা হয় কলব্যাক। সেই কলব্যাক ফাংশনে আপনি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে ডাটা রিটার্ন করবেন, সেটা তখন ডিসপ্লে হবে। ফিল্টার হুক কাজ করে ডাটা পরিবর্তন করার জন্য, আর অ্যাকশন হুক কাজ করে যখন কোন ঘটনা ঘটে (ফর এক্সাম্পল যখন নতুন ইউজার রেজিস্টার করে বা নতুন পোস্ট পাবলিশ হয়)

অ্যাকশন হুক:  অ্যাকশন হুক কাজ করে কোন একটা ইভেন্টের পরিপ্রেক্ষিতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কোন পোস্ট পাবলিশ হলে বা নতুন কোন ইউজার রেজিস্টার করলে যে হুক কাজ করে তাদের বলে অ্যাকশন হুক। ওয়ার্ডপ্রেসের ডকুমেন্টেশন বা কোডেক্সে অ্যাকশন হুকের বিশাল তালিকা রয়েছে। সেখান থেকে দেখে নিয়ে নিজের প্রয়োজনের সময় অ্যাকশন হুক ব্যবহার করা যায়।

উইজেট: সাইডবারে নিজের পছন্দ মত এক্সটার্নাল ডেটা প্রদর্শনের জন্য মূলত উইজেট নামক প্লাগইন ব্যবহার করা হয়। এইসব ক্ষেত্রে উইজেট ব্যবহারে বেনেফিট হল যে থিম ডেভেলপাররা ওয়ার্ডপ্রেস থিমের যেকোন অংশ সাইডবার হিসেবে উল্লেখ করে দিতে পারে, আর একবার কোন অংশকে সাইডবার হিসেবে রেজিস্টার করলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা নিজেরাই সেইসব সাইডবারে ড্র‍্যাগ অ্যান্ড ড্রপের মাধ্যমে উইজেট দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারে।

মেনু/নেভিগেশন: ওয়ার্ডপ্রেসে নিজের পছন্দমত মেনুবার/নেভিগেশন সাজিয়ে নেয়ার জন্য একটি চমৎকার মেনু বিল্ডার রয়েছে। তবে এটা এনাবল করার জন্য থিম ডেভেলপাররা আলাদা ভাবে ইনস্ট্রাকশন লিখে দেন যেন ব্যবহারকারীরা মেনু বিল্ডার দিয়ে মেনুবার সাজাতে পারে। থিম ডেভেলপাররা ওয়ার্ডপ্রেসে অগুনতি নেভিগেশন রেজিস্টার করে দিতে পারে, কারন একটা থিমের ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে হেডার, ফুটার বা লেফট/রাইট সাইডে নেভিগেশন থাকে। বর্তমানে মেনুবারের এলিমেন্ট গুলোকে হার্ডকোড করে ডিজাইন করে দেয়ার বদলে ওয়ার্ডপ্রেসের নিজস্ব মেনু বিল্ডার দিয়ে ডিজাইন করানোই কাঙ্খিত।

প্লাগইন: ওয়ার্ডপ্রেসের ডিফল্ট ফিচার গুলোর মাঝে পরিবর্তন আনার জন্য, তাদের কে ইমপ্রুভ করার জন্য বা একদমই নতুন ফিচার অ্যাড করার জন্য থিম ডেভেলপাররা এবং সাধারন ব্যবহারকারীরা প্লাগইন ব্যবহার করে থাকে। প্লাগইন গুলো অ্যাকশন এবং ফিল্টার হুক ব্যবহার করে ওয়ার্ডপ্রেসের যেকোন অংশে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে থাকে। ব্রড সেন্সে বলা যায় যে শর্টকোড, উইজেট এরাও একধরনের প্লাগইন – তবে এদের স্কোপ অনেক লিমিটেড।

স্লাগ: ওয়ার্ডপ্রেসে প্রতিটি পোস্ট, পেজ, অথর, ট্যাক্সোনমি দেখার জন্য দুই ধরনের ইউআরএল থাকে, একটি হল আইডি বেজড যা প্রধানত একটি নাম্বার আর আরেকটি হল সহজপাঠ্য একটি শব্দ বা একাধিক শব্দের মিশ্রন। ইউআরএলের এই সহজপাঠ্য অংশটিকেই বলা হয় স্লাগ। স্লাগ প্রতিটি পোস্ট, পেজ ইত্যাদির জন্য ইউনিক হয়। http://wpcookbook.net/wordpress-terminology/ এই ইউআরএলে “wordpress-terminology” শব্দটি হল এই পোস্টের স্লাগ

13 thoughts on “ওয়ার্ডপ্রেস টার্মিনোলজি”

  1. ধন্যবাদ হাসিন ভাই । সুন্দর লেখা – কাজে দিবে বেশ ।

  2. অনেক কিছু স্পষ্ট করে বুঝলাম। নিয়মিত লেখে গেলে উপকৃত হবো। তাই নিয়মিত লেখ যাওয়ার অনুরোধ রইলো।

  3. ধন্যবাদ, হাসিন ভাই । পরের লেখা গুলোর জন্য অপেক্ষায় রইলাম। ভালো থাকবেন।

  4. অসংখ্য ধন্যবাদ হাসিন ভাই।

    ফেসবুকে আপনাকে ফলো করায় জানতাম আপনি ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে লেখার কথা ভাবছেন, তাই অপেক্ষা করে ছিলাম। প্লিজ লাগে লেখা থামিয়ে দেবেন না। আপনার একাগ্রতার উপর বিশ্বাস আছে। সঙ্গে থাকবো। অপেক্ষায় থাকবো।

  5. স্লাগ জিনিশটা কি আগে জানতাম না। এই পোস্ট পড়ার পর এখন বুঝলাম। 🙂

  6. অনেক কিছু স্পষ্ট করে বুঝলাম। নিয়মিত লেখে গেলে উপকৃত হবো। তাই নিয়মিত লেখ যাওয়ার অনুরোধ রইলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *